andhadhun
চলচ্চিত্র

Movie:Andhadhun – জাফরুল ইসলাম রাজন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

স্পয়লার অ্যালার্ট ।। স্পয়লার অ্যালার্ট  

কোন প্রকার লুপহোল ছাড়া আন্ধাধুনের শুধুমাত্র একটা এন্ডিংই লজিক্যাল ।

১। মুভির শুরুই হয় আয়ুষ্মানের একটা ব্যাকগ্রাউন্ড সংলাপ দিয়ে, “অনেক লম্বা কাহিনী । কফি ?” যেটা আমরা মুভির শেষ দিকে গিয়ে দেখি যে এটি রাধিকার সাথে কফিশপের সংলাপ । এই ব্যাকগ্রাউন্ড সংলাপের পরেই আমরা এক অন্ধ খরগোশকে গুলি করার দৃশ্যটা দেখি । অর্থাৎ এই দৃশ্যটা আয়ুষ্মানের গল্পের বর্ননার ভিজুয়ালাইজেশন । দৃশ্যটি বাস্তব নাকি অবাস্তব সে সম্পর্কে অস্পষ্টতা আছে ।

২। মুভির দ্বিতীয়আর্ধে আয়ুষ্মান সত্যিই অন্ধ হয়েছিল । যদি ধরে নেই যে আয়ুষ্মান তখন অন্ধ হয়নি সেক্ষেত্রে মুভির প্লটে কিছু লুপহোল থেকে যায় । প্রথমত, ওই পুলিশের হাত থেকে বাঁচার জন্য পালিয়ে এসে রাস্তায় খোলা জায়গায় ফুটপাতে খাম্বার সাথে বাড়ি খেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে থাকত না । কার এক্ষেত্রে পুলিশ তাকে ধরে ফেলার একটা সম্ভাবনা থেকে যায় এবং সেক্ষেত্রে তার মৃত্যু অবধারিত । অর্থাৎ অন্ধের ভান ধরে থেকে নির্ঘাত মৃত্যুর রিস্ক সে কখনই নিবে না, যেমনটা নেয়নি টাবু গুলি করার সময় । যেহেতু আয়ুষ্মান জেনে গেছে তার অন্ধের ভান ধরেও লাভ নেই, ওই পুলিশ তাকে মেরে ফেলবে । সুতরাং এই অন্ধের ভান ধরে থাকার কোন প্রশ্নই ছিল না পুলিশের হাত থেকে পালিয়ে আসার পর । তখন আয়ুষ্মানের একমাত্র উদ্দ্যেশ্য হওয়া উচিত ছিল কোনভাবে পালিয়ে দেশ ছেড়ে লন্ডন চলে যাওয়া । শুধু শুধু খাম্বার সাথে বাড়ি খেয়ে পড়ে থেকে ওই অটো ওয়ালা আর লটারি ওয়ালীর কর্তৃক উদ্ধার হয়ে মুভির পরবর্তি এই বিশাল ঝামেলার মধ্যে পড়ারই কথা ছিল না । যাইহোক দ্বিতীয়ত, মেডিকেলে টাবু আর আয়ুষ্মান বদ্ধ অবস্থায় থাকার সময়, টাবু যখন আয়ুষ্মানের হাত খুলে দেয় তখনও আয়ুষ্মান অন্ধ না হলে ইচ্ছা করলেই সেখান থেকে পালিয়ে যেতে পারত । কেননা তখনও টাবুর চোখ বাধা ছিল । অন্ধ না হলে টাবুর চোখ খুলে দেয়ার কোন প্রশ্নই আসে না । 

৩ । রাধিকার সাথে সাক্ষাতের আগ পর্যন্ত আমরা যা দেখি তা তা সবই সত্যি যেমনটা সত্য আয়ুষ্মান তখনও অন্ধ ছিল । রাধিকা পুর্ব দৃশ্য খেয়াল করলে দেখব, শেষের দিকে ডাক্তার একটা সংলাপ বলে, “What is life? It all depends on lever.” খেয়াল করলে দেখবেন মুভির একদম শুরুর অর্থাৎ আয়ুষ্মানের ব্যাকগ্রাউন্ড সংলাপের আগেই স্ক্রিনে এই সেইম লেখাটাই দেখায় । এবং রাধিকা সাক্ষাত পরবর্তি দৃশ্য এই সংলাপ থেকেই শুরু হয় । অর্থাৎ এই সংলাপটাই ট্রাঞ্জিশন পয়েন্ট । রাধিকা পুর্ব দৃশ্যে ডাক্তারের এই সংলাপটা বলার পর তাদের গাড়ি রাস্তার পাশের একটা গাছকে অতিক্রম করতে দেখা যায় অতঃপর অনেকদূর চলে যেতে দেখা যায় । অর্থাৎ বোঝা যায় আয়ুষ্মান যা ডিসিশন নেয়ার নিয়ে নিছে, এখন শুধু গন্ত্যব্যে যাওয়ার পালা । রাধিকা পরবর্তি দৃশ্যে আয়ুষ্মানের বর্ননায় দেখা যায় “What is life? It all depends on lever.” এই সংলাপ টার পরে আরও অনেক সংলাপ বিনিময়ের পর গাড়ির পেছনের ডিক্কিতে শব্দ হয় । এবং ডক্তার পেছনে দেখার জন্য গাড়ি থামায় ওই গাছ টার পাশেই । আয়ুষ্মানের এই বর্ননাটা যদি সত্যি হত তাহলে এই ঘটনা টা ঘটার কথা ছিল এই গাছ অতিক্রম করার আরও অনেক পরেই । এছাড়া এই ঘটনা এও প্রমাণ করে যে আয়ুষ্মান তখনও অন্ধ ছিল, এ কারনেই স্থানের হিসাবে গোলমাল পেকে গেছে । কিন্তু আমরা দর্শকরা যাতে বুঝতে পারি সেজন্য পরিচালক খুব সূক্ষ্মভাবে এই পার্থক্যটা দেখিয়ে দিয়েছেন । 

আল্টিমেটলি মুভির এন্ডিং দাঁড়ালো, আয়ুষ্মান ডাক্তারের কথা মেনে নিয়েছে এবং কর্নিয়ার অপারেশন করে নিজের চোখ ঠিক করেছে । কিন্তু তারপরেও তার মনে একটা দ্বিধাদ্বন্দ্ব ছিল যে সে কাজটা ঠিক করেছে কি করে নাই । এজন্যই সে রাধিকার কাছে সত্য কথা বলে নাই, মিথ্যা বানোয়াট গল্প বলে তার সিম্প্যাথি নেয়ার চেষ্টা করেছে । কিন্তু পরে সব কথা শোনার পর রাধিকা যখন বলে যে তার ডাক্তারের কথা শোনা উচিত ছিল তখন আয়ুষ্মানের এক্সপ্রেশনে একটা স্যাটিশফেকশন দেখা যায়, যেহতু সে এই কাজটাই করেছে । 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *