the fall
চলচ্চিত্র

Movie: The Fall (2006) – জাফরুল ইসলাম রাজন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Director: Tarsem Singh
Genre: Adventure fantasy
IMDb Rating: 7.9

ঘটনাটা লস এঞ্জেলেসের, ১৯১৫ সালের দিকের সম্ভবত । মুভি স্টান্ট ম্যান Roy তার প্রথম মুভিতে ব্রিজের উপর থেকে ঘোড়ার উপর লাফ দেয়ার একটি দৃশ্যে কাজ করতে গিয়ে দুর্ঘটনায় শরীরের নিচের অংশ প্যারালাইজড হয়ে হাসপাতালে ভর্তি । হাসপাতালে তার সাথে পরিচয় হয় ৫ বছরের বাচ্চা মেয়ে আলেকজান্দ্রিয়ার । আলেকজান্দ্রিয়া তার পরিবারের সাথে কমলা বাগানে কাজ করে । কমলা পাড়তে গিয়ে গাছ থেকে পড়ে গিয়ে হাত ভাঙ্গে আলেকজান্দ্রিয়ার ।

মুভির কাহিনীটা এইরকমঃ 

রয় আলেকজান্দ্রিয়াকে একটা গল্প শোনায়, An epic tale of love and revenge । গল্পের শুরু হয় পাঁচটি চরিত্র নিয়ে । কিছুদিন আগেও পাঁচটি চরিত্রের কেউ কাউকে চিনত না । অথচ আজকে তাঁদের সবার লক্ষ্য এক, গভর্নর ওডিয়াসকে (Odious) হত্যা করা ।

Otta Benga- গভর্নর ওডিয়াসের অধীনে সে ও তার ভাই ছিল কৃতদাস । ওডিয়াসের অত্যাচারে ভাইয়ের মৃত্যু হলে সেখান থেকে পালিয়ে আসে ওটা বেঙ্গা । লক্ষ্য একটাই, ভাইয়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ ।

The Indian- ধারণা করা হয় যে সে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দরী নারীকে বিয়ে করেছিল যদিও তাকে দেখার সৌভাগ্য কারো হয়নি । গভর্নর ওডিয়াস সেই সুন্দরীকে অপহরন করে নিয়ে যায় । নিজেকে প্রদর্শনে অস্বীকৃতি জানালে তার স্থান হয় এক ভয়ঙ্কর গোলোকধাঁধায় যেখান থেকে কেউ কখনও বের হতে পারেনি । অবশেষে আত্মহত্যাই তাকে গোলকধাঁধা থেকে মুক্তি দেয় । তখন থেকেই ইন্ডিয়ান শপথ নেয় জীবনে আর কোন মেয়ের চেহারা দেখবে না এবং ওডিয়াসকে নিজের হাতে খুন করবে ।

Luigi- একজন এক্সপ্লোসিভ এক্সপার্ট । তার নতুন তৈরি বোমা ওডিয়াসের জন্য হুমকি হবে বিধায় ওডিয়াস তাকে নির্বাসিত করে দিয়েছিল । লুজির সাথে কথা বলা তো দূরের কথা সবাই তাকে দেখলে ভয়ে পালিয়ে যেত । কারন ওডিয়াসের নির্দেশ, লুজির সাথে কাউকে দেখলে তাকে তৎক্ষণাৎ হত্যা করা হবে ।

Charles Darwin- সে জীবন্ত সবকিছুকেই পছন্দ করত, পশু, পাখি, গাছ সবকিছু । তার একমাত্র বন্ধু ছিল তার পোষা বানর Wallace । যদিও তারা একসাথে অনেকগুলো তত্ত্ব দিয়েছিল তবুও তারা খুবই বিশেষ একটা কিছুর খোঁজে ছিল, একটা বিশেষ ধরণের প্রজাপতি, Americana Exotica । একদিন গভর্নর ওডিয়াস তাদেরকে সেই বিশেষ ধরণের একটা মৃত প্রজাপতি উপহার দেয় । যার খোঁজে ডারউইন দেশে-বিদেশে, বনে-জঙ্গলে ঘুরে বেড়িয়েছে সেটিকে চোখের সামনে মৃত দেখে ক্রোধে উন্মাদ হয়ে পড়ে ডারউইন । তারও চাই প্রতিশোধ ।

The Masked Bandit- তার যমজ ভাই Blue Bandit ও তার সহযোগিদেরকে ওডিয়াস ফাঁসিতে ঝুলিয়ে হত্যা করে ।

এই পাঁচ জনের সহযোগী হিসেবে পরে যুক্ত হয় The Mystic- একটা ফিকশনাল ক্যারেক্টার । নিজের প্রয়োজনে বিশাল বিস্তীর্ণ বনভূমি কেটে মরুভূমিতে পরিণত করে ওডিয়াস । জীবন্ত সবকিছু বিলীন হয়ে যায় । The Mystic তখন তার পেটের ভিতরে সবগুলো পাখিকে আশ্রয় দেয় ।

মুভিতে আমরা যেই অডিও আউটপুটটা শুনি সেটা হচ্ছে রয় এর ন্যারেশন । আর যেই ভিডিও আউটপুটুটা দেখি সেটা হচ্ছে আলেকজান্দ্রিয়ার ভিজুয়ালাইজেশন । গল্পের প্রত্যেক্টা চরিত্রকে সে তার পরিচিত মানুষদের দিয়ে চিত্রায়িত করে । ঠিক যেমন আমরা কোন বই পড়লে গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্রে নিজেকে কল্পনা করতে শুরু করি ঠিক তেমন । 

গল্প শোনানোর পেছনে রয়ের একটা উদ্দেশ্যে অবশ্য ছিল । প্যারালাইজড হওয়ার পর রয়ের গার্লফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে যায় । এমনিতেই প্যারালাইজড তার উপর এই অবস্থায় চরম হতাশায় আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেয় রয় । যেহেতু সে নড়াচড়া করতে পারেনা এবং প্রেসক্রিপশন এর বাইরেও তাকে ঔষধ দেয়া হয় না তাই সে আলেকজান্দ্রিয়াকে ব্যাবহার করে হাসপাতালের মেইন ব্লক থেকে মরফিন চুরি করে আনার জন্য । বাচ্চা মেয়ে আলেকজান্দ্রিয়া জানেও না যে এই মরফিন দিয়ে কি হবে । তাই পরদিন সে গল্পের বাকি অংশ শোনার জন্য ঠিকই নিয়ে আসে মরফিন । সবগুলো একসাথে খেয়ে ফেলে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন হতে থাকে রয় । কিন্তু আলেকজান্দ্রিয়ার বায়না তাকে গল্পের বাকি অংশ শোনাতে হবে । যেহতু গল্পটা রয়ের নিজের বানানো তাই ঘুমিয়ে পড়ার আগেই অর্থাৎ মারা যাওয়ার আগেই সে কোন ভাবে টেনে টুনে গল্প শেষ করে দিতে চায় । The Masked Bandit ও তার দলবল ওডিয়াস বাহিনীর হাতে ধরা পড়ে । কিন্তু আলেকজান্দ্রিয়া এটা মেনে নিতে চায় না । গল্পের চরিত্রগুলোকে আপন করে নিয়েছে আলেকজান্দ্রিয়া, তাঁদের এই করুণ পরিণতি সে কিছুতেই মানতে পারে না । The Masked Bandit (যেই চরিত্রটাকে সে Roy কে দিয়ে চিত্রায়িত করেছে) এর মেয়ে হিসেবে গল্পের একটা চরিত্রে ঢুকে যায় আলেকজান্দ্রিয়া । তাদেরকে বাঁচাবার প্রানপণ চেষ্টা করে । আর এইদিকে Roy গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন । গল্প আগায় না । আলেকজান্দ্রিয়া চেষ্টা করে Roy কে জাগানোর, গল্পের মধ্যেও, বাস্তবেও । কিন্তু…

মুভির এই পয়েন্টটা মোটামুটি Inception এর মত । 😀 মানে কৌতূহল এর ভিতর কৌতূহল । আলেকজান্দ্রিয়ার কৌতূহল গল্পের পরবর্তি অংশে কি হবে ? তারা কি বেঁচে যাবে, নাকি সবাই মারা যাবে ? আর আমাদের কৌতূহল মুভির পরবর্তি অংশে কি হবে? রয় কি মারা যাবে ? তাহলে গল্পের কি হবে ? পরবর্তি অংশ কে শোনাবে ! জানতে হলে দেখতে হবে এই মুভি । অসম্ভব সুন্দর মুভি । মন ভাল করে দেওয়ার মত । সিনেমাটোগ্রাফিও অস্থির, চোখের ক্ষুদা মিটে যাবে । বাচ্চা মেয়েটার অভিনয় মুগ্ধ করবে ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *