gloomy sunday
চলচ্চিত্র

Movie: Gloomy Sunday (1999) – জাফরুল ইসলাম রাজন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Country: Germany
Genre: Romance, Drama
IMDb: 7.9/10 (5811 Users)

বার্লিনে একবার এক তরুণ কোন একটি সঙ্গীত দলের কাছে একটি গান শোনার পর বন্দুক দিয়ে মাথায় গুলি করে আত্মহত্যা করে । মরার আগে সে প্রতিবেশীদের কাছে অভিযোগ করে যে, কিছুদিন আগে একটা গান শোনার পর থেকে সেটার সুর সে কোনভাবেই মাথা থেকে বের করতে পারছে না । গানটি ছিল ‘The Gloomy Sunday’।

(লেখাটা যেহেতু বড়, নিউ ট্যাবে Gloomy Sunday শুনতে শুনতে লেখাটা পড়তে পারেন । Billie Holiday version: https://www.youtube.com/watch?v=48cTUnUtzx4

১৯৩২ এর ডিসেম্বরের দিকে, হাঙ্গেরীয় রেজো সেরেস (Rezső Seress) তখন একজন স্ট্রাগলিং মিউজিক কম্পোজার । উচ্চাভিলাষী সেরেসের আকাঙ্খা একদিন বিশ্বের নামীদামী সুরকারদের একজন হবে সে, অথচ তার কোন কাজই ফ্রান্সের তখনকার কোন সঙ্গীত প্রয়োজকের মন জয় করতে পারছিল না । এদিকে সেরেসের গার্লফ্রেন্ড ভয় পাচ্ছিল যে এই উচ্চাকাঙ্ক্ষা হয়ত ধীরে ধীরে তাকে শেষ করে দিবে, সে চাচ্ছিল ৯টা-৫ টার কোন একটা চাকরি বাকরি করে স্যাটেল হোক তারা । কিন্তু সেরেস নাছোড়বান্ধা । বনিবনা হচ্ছিলনা দেখে একপর্যায়ে তার গার্লফ্রেন্ড তাকে ছেড়ে চলে যায় । দিনটি ছিল রবিবার-সেই বিষাদময় রবিবার । সেরেস মনমরা হয়ে বসে পরে তার পিয়ানোর সামনে, স্থির দৃষ্টিতে জানালার বাইরে তাকিয়ে থাকে, তাকিয়ে থাকে প্যারিসের ধূসর কালো মেঘাচ্ছন্ন আকাশের দিকে । বাইরে বৃষ্টি নামে, বৃষ্টি নামে হৃদয়ে । পিয়ানোতে সুর তোলে, অদ্ভুতুড়ে অবসাদে ঘেরা সুর । হৃদয়ের একেবারে গভীরতম স্থানকে ক্ষতবিক্ষত করে দেয়া সুর । এই সুরটাকেই সেরেস নাম দেয় “Gloomy Sunday” । কম্পোজ করে পাঠিয়ে দেয় সঙ্গীত প্রযোজকের কাছে । দুদিন পর চিঠি আসে, “Gloomy Sunday খুবই অদ্ভুত এবং অত্যধিক বিষণ্ণতায় ভরা, আমরা দুঃখিত যে, এটি আমরা প্রকাশ করতে পারছিনা ।” পরবর্তীতে অন্য একজন প্রয়োজকের কাছে পাঠালে সেটি গৃহীত হয় ।

গানটি প্রচারের পরপরই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আত্মহত্যার খবর আসতে থাকে । বার্লিনের ঘটনার এক সপ্তাহ পরে একই শহরে এক তরুণীর লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায় তার ফ্ল্যাটে । আত্মহত্যার তদন্তকারীরা বেডরুমে Gloomy Sunday’র একটা প্রিন্টেড কপি পায় । দুই দিন পর আরেক তরুণী আত্মহত্যা করে সুইসাইড নোটে লিখে যায়, তার ফিউনেরালে যেনো Gloomy Sunday বাজানো হয় । সপ্তাহখানেক পরে নিউ ইয়র্কে ৮২ বছর বয়স্ক এক বৃদ্ধ তার পিয়ানোতে Gloomy Sunday বাজিয়ে ৭ তলা অ্যাপার্টমেন্টের জানালা থেকে লাফ দেয় । কাছাকাছি সময়ে রোমের এক কিশোর যেকিনা এই ভয়ানক সুর শুনেছিলো, ব্রিজ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করে । মোটামুটি গানটি প্রচারের পর থেকে ৮ সপ্তাহের মধ্যে শুধুমাত্র হাঙ্গেরিতেই প্রায় ১০০ এর বেশি আত্মহত্যার খবর পাওয়া যায় যার সাথে কোন না কোনভাবে Gloomy Sunady জড়িত ছিল । বিশ্বব্যাপি এইসব খবর প্রচারের পর থেকে বাধ্য হয়ে বিবিসি গানটির প্রচার বন্ধ করে দেয় । 

Gloomy is Sunday, with shadows I spend it all
My heart and I have decided to end it all
Soon there’ll be candles and prayers that are sad I know
Let them not weep, let them know that I’m glad to go

শুরুতে গানটির কোন লিরিক্স না থাকলেও পরবর্তিতে ১৯৩৬ এর দিকে সেরেসের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ল্যাজলো জ্যাভর (László Jávor) এটির লিরিক্স লিখে । গানের কথায় থাকে মৃত প্রিয়তমাকে লেখকের নিজের জন্য আয়োজিত ফিউনেরালে আসার আমন্ত্রণ, থাকে পরকালে মিলিত হবার তীব্র বাসনা । এমনিতেই অবসন্নতায় ভরা মিউজিক তার উপর বিষাদময় লিরিক্স আত্মহত্যার জন্য প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল ।

এদিকে এই অভিশপ্ত গানের স্রষ্টা সেরেসকেও যে এর ফল ভোগ করতে হবে । সে তার প্রাক্তন প্রেমিকাকে চিঠি পাঠায় সবকিছু ভুলে গিয়ে আবার ফিরে আসার জন্য । কিন্তু এর কিছুদিন পরেই সেরেস খবর পায় তার প্রেমিকা বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করেছে এবং পাশের সুইসাইড নোটে লেখা ছিল শুধুমাত্র দুটি শব্দ, “Gloomy Sunday” । 

*গানটি লেখার প্রায় ৩৫ বছর পর ১৯৬৮ এর জানুয়ারিতে এর স্রষ্টা রেজো সেরেস আত্মহত্যা করে ।
*১৯৪১ সালে Billie Holiday লিরিক কিছুটা পরিবর্তন করে গানটির নতুন ভার্সন বের করে
*২০০২ সালে বিবিসি Gloomy Sunday প্রচারের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে । 

এই সত্য ঘটনা অবলম্বনে তৈরি জার্মান মুভি Gloomy Sunday । প্রকৃত ঘটনাকে মডিফাই করে লাভ চতুর্ভুজকে ভিত্তি করে মুভির প্লট সাজানো হয়েছে । সুন্দর মুভি । সুন্দর নায়িকা ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *