arrival
চলচ্চিত্র

Movie: Arrival (2016) – জাফরুল ইসলাম রাজন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Genre: Drama, Mystery, Sci-Fi
Director: Denis Villeneuve
IMDb Rating: 8/10
Personal Rating: 8/10
SPOILER ALERT!!! 

মুভির ঘটনাপ্রবাহ এমন যে, হঠাৎ একদিন আমেরিকা, চীন, পাকিস্তান সহ পৃথিবীর মোট ১২ টি জায়গায় এলিয়েন স্পেসশীপ এসে অবস্থান নেয়  এবং এফেক্টেড দেশগুলো সেসব জায়গায় মিলিটারি এবং সায়েন্টিস্টদের পাঠায় অবজার্ভেশন এবং পরীক্ষণের জন্য । মুভিটি টিপিক্যাল এলিয়েন মুভি থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং সত্যিকার অর্থেই যদি কোন এলিয়েনদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হয় তাহলে আমাদের এপ্রোচটা হবে মুভির মতই । মুভির ‘KEY POINT’ হচ্ছে ‘ভাষা’ ।  ভাষা যেহেতু আছে সেখানে লিঙ্গুইস্ট থাকবেই । এখন আমাদেরকে আগে ভাষার গুরুত্ব বুঝতে হবে । কেন আমরা এলিয়েনদের ভাষা শিখব অথবা এলিয়েনই বা কেন আমাদেরকে তাদের ভাষা শেখাতে আসবে ? একটা গল্প শুনেছিলাম, বহুদিন বিদেশে থেকে ছেলে বাড়িতে এসে ভাত খাওয়ার সময় গলায় আটকে ‘ওয়াটার’ ‘ওয়াটার’ করতে থাকে অথচ ওয়াটার এর অর্থ কেউ বুঝতে পারেনা । এটা ওটা নিয়ে আসে । এবং পানির অভাবে এক সময় মারাও যায় । এখন ৩০০০ বছর পর যেহেতু এলিয়েনদের মানবজাতির সাহায্য লাগবে সেহেতু আগে তারা আমাদেরকে তাদের ভাষা শেখাবে । এলিয়েনরা বলে যে, তারা আমাদের জন্য একটা ‘উইপন’ গিফট এনেছে; যেটাকে মানবজাতি সত্যিকার অর্থেই উইপন ভেবেছিল সেটা আসলে ছিল ‘ভাষা’ । লিঙ্গুইস্ট এর কাজ ছিল এলিয়েনদের ভাষা ডিসাইফার করা আর ফিজিসিস্ট এর কাজ ছিল সেই ভাষায় লেখা তাদের ফিজিক্স বোঝা, যেটা অবশ্য মুভিতে তেমনভাবে গুরুত্ব পায়নি অথবা প্রত্যক্ষভাবে দেখানো হয়নি । তবে এলিয়েনদের সাথে communicate করার ক্ষেত্রে প্রথমত একজন লিঙ্গুইস্ট এবং পরবর্তিতে যে আমরা একজন ফিজিসিস্ট এর দ্বারস্থ হব সেটা সম্পূর্ণরূপে প্র্যাক্টিক্যাল এবং বাস্তবসম্মত । এক্ষেত্রে দ্বিমতের কিছু নেই । 

এখন ভাষা নিয়া আরেকটু চিন্তা করি; বিভিন্ন শব্দ নিয়া খেলা শুরু করি । ধরুন আমি বললাম ‘আপেল’। আপেল শব্দটা দেখে মুহূর্তেই আপনার চোখের সামনে আপেলের ছবি ভেসে উঠবে; কলা, আম, জাম, কাঠাল এইগুলো না । এবার, “Apple” ; সেই একই জিনিস এবারও ভিজুয়ালাইজ করছেন । অর্থাৎ ভাষা শুধুমাত্র কিছু শব্দের সমষ্টি না । একটা শব্দ শুনলে সেটার ফিজিক্যাল এপিয়ারেন্স কেমন হবে সাথে সাথেই আমরা সেটা ভিজুয়ালাইজ করতে পারি । এখন চিন্তা করি, “F=ma” (ফিজিসিস্টদের ভাষা) । একজন ফিজিসিস্ট চিন্তা করবে কোন অবজেক্ট এর ওপর ফোর্স এপ্লাই করার কারনে সেটি এক্সিলারেট করছে, গাছ থেকে মাটিতে আপেল পড়ছে, গাড়ি চলছে, সূর্যের চারিদিকে পৃথিবী ঘুরছে । একজন ফিজিসিস্ট এইরকম অনেককিছুই ভিজুইয়ালাইজ করতে পারবে । অর্থাৎ একটা ভাষা শিখলে সেই ভাষায় শুধু যে আমরা কমুনিকেটই করতে পারব তা না বরং সেই ভাষায় চিন্তাও করতে শিখে যাব । এই “সেই ভাষায় চিন্তা” করাটাই এই মুভির উপজীব্য । 

ভাষা ডিসাইফার সম্পূর্ণ লজিক্যাল ছিল । হিন্দি ভাষা বোঝেন ? কেউ এসে ধরে ধরে শিখিয়েছে ? একই শব্দের ব্যবহার ভিন্ন ভিন্ন বাক্যে দেখে সেখান থেকে COMPARISON আর  ELIMINATION METHOD ইউজ করে এক একটা শব্দের সঠিক অর্থ বুঝেছেন । মুভিতেও সেই কাজটাই করা হয়েছে।

মুভির সাইন্স এবং মুভির ফিকশনঃ এলিয়েনরা যে মানবজাতির চেয়ে বুদ্ধিমত্তায় এগিয়ে সেটার প্রথম প্রমাণ হচ্ছে এলিয়েনরাই পৃথিবীতে এসেছে, আমরা তাদের গ্রহে যাইনি । এলিয়েনদের ফিজিক্স যে আমাদের চেয়ে এগিয়ে সেটার প্রমাণ তাদের স্পেসশিপ । যেহেতু স্পেসশিপ শূন্যের উপর ভাসছে কোন প্রকার থ্রাস্ট ছাড়া তার মানে তারা গ্র্যাভিটি কন্ট্রোল এর ক্ষমতা রাখে । এবং এটার পাকাপোক্ত প্রমাণ পাওয়া যায়, যখন দেখা যায় স্পেসশিপে গ্র্যাভিটি হরাইজন্টাল (ভূপৃষ্ঠের সমান্তরালে) ডিরেকশনে কাজ করছে । আমরা স্পেসশিপের যেই ভার্টিকাল (লম্বালম্বি) প্লেইন দেখছি সেটি আসলে তাদের বেইজ । এখন গ্র্যাভিটি যেহেতু স্পেসটাইমের কার্ভেচার, তার মানে তাদের কাছে টাইমও অন্যরকম । আমাদের কাছে টাইম যেমন অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যতের মাধ্যমে একটা ফ্লোয়িং প্রসেস । এলিয়েনরা টাইমকে একটা স্টিল ফ্রেমে অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ একই সাথে দেখতে পাচ্ছে । এখন তারা যেহেতু জানে যে ৩০০০ বছর পর তাদের মানবজাতির সাহায্য লাগবে, সেহেতু মানবজাতিকে অবশ্যই তাদের মত করেই ফিজিক্স জানতে হবে । এজন্যই তারা মানুষকে তাদের ভাষা শেখাতে আসে । যেহেতু তাদের উদ্দেশ্যই ছিল ভাষা শেখানো, এবং সেটা নিশ্চিত করেই তারা পৃথিবী ত্যাগ করেছে, এর আগে না । 

মুভির শেষের দিকে আমরা জানতে পারি যে, প্রথমদিকে যেই ফ্ল্যাশব্যাক দেখানো হচ্ছিল সেগুলো ছিল আসলে ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড । এবং এলিয়েনদের সাথে কমুনিকেশন এর সময়কালে যেই ফ্ল্যাশব্যাক গুলো, সেগুলোও ছিল ফ্ল্যাশফরোয়ার্ড । এখানেই মুভির ফিকশন । যেহেতু একটা নতুন ভাষা শেখার সাথে সাথে আমরা সেই ভাষায় চিন্তাও করতে শিখে যাই, এখানে এলিয়েনদের ভাষা শেখার সাথে সাথে লুইসও তাদের মত করে টাইমকে স্টিল ফ্রেমে দেখা শুরু করে । অর্থাৎ ভবিষ্যতে তার মেয়ে ক্যান্সারে মারা যাবে সেটা সে আগেই দেখতে পাচ্ছিল । এবং এটাই এখানে ফিকশন । তবে অবশ্যই আজগুবি ফিকশন না । ভাষার সাথে সময়ের সম্পর্ক নিয়ে ল্যান্সেস্টার এবং স্টকহোম ইউনিভার্সিটির দুইজন লিঙ্গুইস্টের একটি থিসিস পেপার আছে । সেটি সম্পর্কে জানতে এখানে দেখুন: https://www.sciencedaily.com/releas…/2017/…/170502112607.htm

এলিয়েনরা যখন বলে যে তারা মানবজাতির জন্য একটা ‘উইপন’ এনেছে তখন চাইনিজরা সেটাকে সত্যিকার অর্থেই ‘উইপন’ ভেবে ভুল করে এবং ভেবে বসে এলিয়েনরা হয়ত আমাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় । চাইনিজ জেনারাল তখন ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেয় যাতে এলিয়েনরা পৃথিবী ত্যাগ করে নতুবা তারাও এলিয়েনদের স্পেসশিপে আক্রমণ করবে । পরবর্তিতে আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখার ক্ষেত্রেও এই স্টিল টাইম ফ্রেমই দায়ী । লুইস জেনারলকে ফোন করে জানায় তার ওয়াইফ মৃত্যুর সময় তাকে শেষ কি কথা বলে গিয়েছিল এবং কথাটা কি ছিল সেটা লুইস জানতে পারে ফ্ল্যাশফরোয়ার্ডের মাধ্যমে । এর মাধ্যমেই লুইস জেনারেলকে কনভিন্স করে অ্যাটাক না করার জন্য ।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *