barta naki kubarta
প্রবন্ধ

বার্তা নাকি কুবার্তা! – জান্নাতুল ফেরদৌসী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

একটা মেয়ের জীবনচক্র! একটা নির্দিষ্ট বয়সে বিয়ে হল। তারপর বাচ্চা হল। একটা সময় গিয়ে শশুরবাড়ির লোকজন ও স্বামী তাকে নির্যাতন করলো। তার কিছুদিন পর মেয়েটি নিজের আত্মসম্মান তৈরীর জন্য একটা  চাকরি করলো। এবং তারপর কি হলো? কাহিনীটা  আপনাদের  সবারই  জানা।

মেয়েটি চাকরি বা অর্থনৈতিকভাবে সাবলম্বী হওয়ার কারণে পরিবারের সবাই তাকে রেসপেক্ট করতে শুরু করলো। এমন হাজারো নাটক সিনেমায় আমাদের ইন্ডাস্ট্রি ভরপুর।

এবার আসি প্রশ্নে, মেয়েটি চাকরি পাওয়ার পর  হুট করেই যে এত সম্মান আর ভালবাসা পেল আদৌ কি সেটা রিয়েল?

সম্মানটা কি মেয়েটির প্রতি নাকি চাকরির  প্রতি?

আর যে বা যারা চাকরি করতে আগ্রহী নয় বা চাকরী করার ক্যাপাবিলিটি নাই, তারা কি সারা জীবন সম্মানহীনতা আর শোষিত হতেই থাকবে?

এমন মেসেজই তো আমরা পেয়ে থাকি। নারীরা সমাজে অবহেলিত একটা প্রাণী। এরা মাসিক ইনকাম করলেই সম্মান পাবে? আর না করলে সে সম্মান পাবেনা।

স্বাধীনতা জিনিসটা এমনই হওয়া উচিৎ, একটা মেয়ে যার কিনা চাকরি করার স্বাধীনতাও থাকতে হবে, আবার তার ইচ্ছা অনুযায়ী চাকরী না করার স্বাধীনতাও থাকতে হবে।

কে চাকরি করবে না করবে এটা একজন মেয়ের নিজের ব্যক্তিগত সীদ্ধান্ত।

একজন মেয়ে চাকরি করে না বলে তাকে হেনস্তা করার অধিকার যেমন কারও নেই। আবার, একজন মেয়ে চাকরি করে বলেই শুধু তাকে সম্মান করতে হবে বিষয়টা আসলে  এমন নয়।

সম্মানের দাবিদার কিন্তু দুই পক্ষই।

আমি একজন মেয়ে। আমি চাকরি করব কি করব না সেটা আমার সীদ্ধান্ত।  আর এটাই আমার স্বাধীনতা। আমি গৃহিণী বলে আমাকে গেয়ো বা খ্যাত বলার অধিকারও তোমার নেই, আবার আমি চাকরি করলে আমাকে অসভ্য বলার অধিকারও কারও নেই।

দয়া করে এই চিন্তা থেকে বেরিয়ে আসুন, “চাকরিই পারে নারীর  আত্মসম্মান তৈরি করতে”

আমার নিজের মা একজন গৃহিণী। তিনি কর্মজীবি নয় বলে কি তার প্রাপ্য সম্মান টুকু থেকে তাকে বঞ্চিত করতে হবে? উপরিক্ত বাক্যটি যে  একজন অপেশাজীবি নারীর জন্য ঠিক কতটা ভয়ংকর ইহার অর্থ করলেই বোঝা যায়।

দাবি একটাই, একজন মেয়ে পেশাজীবি বা অপেশাজীবি যাইহোক না কেন প্রতিটি জায়গাই তাদের প্রাপ্য সম্মান  আর  প্রাপ্য অধিকারটুকু দিতে  হবে।

বিঃদ্রঃ

আজ নারী দিবস। যেখানেই চোখ পড়ছে সেখানেই দেখছি নারীর সংসার সামলানোকে খুব হেয় করে দেখানো হচ্ছে। কত বড় একটা ভুল মেসেজ দ্বারা সমাজকে মোটিভেট করছে একবার ভেবেও দেখছেনা। একজন পেশাজীবি নারী  যেমন অর্থনীতিতে অবদান রাখছে  তেমনি একজন অপেশাদার নারীরও অর্থনীতিতে  অবদান রয়েছে। দুর্ভাগ্য যে, হোমমেকার নারীদের অর্থনীতিতে অবদানের পরিসংখ্যানটা এখনও পরিলক্ষিত হয় না।

পরিশেষে একটা কথাই বলতে চাই, ভুল বার্তা দিয়ে সমাজের এক গোষ্ঠীকে উপরে তুলতে গিয়ে আরেক গোষ্ঠিকে বৈষম্যের স্বীকার করা যাবে না।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *