projonmo prosongo
কথোপকথন ও চিঠিপত্র

প্রজন্ম প্রসঙ্গ – হুসাইন হায়দার সাদর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

-কী করা যায়?

-মূলত; কিছুই করার নেই ।

-কিন্তু কেন?

-এই ‘কেন’ এর উত্তর আমি দিতে পারব না।

– সব কিছুতে তোমার এই পারব না কথাটা আমার ভালো লাগছে না। দিন দিন নেতিয়ে যাচ্ছ তুমি। কোন কাজে মনোযোগ দেখছি না। আগ্রহ দেখছি না।

-নেতিয়ে যাচ্ছি না। কাজ করার শক্তি এখনো আমার আছে। কিন্তু মনোবল হারিয়ে ফেলেছি। কাদের জন্য কাজ করব? কীসের জন্য কাজ করব? পরিবেশ আমাকে আগের মত সাহায্য করছে না। চারপাশের মানুষগুলো আর আগের মত নেই। তাদের মধ্যে কি যেন একটা হারিয়ে গেছে।

-কোন কিছু হারিয়ে যায়নি। সবকিছুই আছে আগের মত। কিন্তু তাদেরকে সেই বিষয়টা খুঁজে বের করতে হবে। আরো কিছুদিন সময় দিলে হয়ত তারা আবার নিজেদের জাতিসত্তা খুঁজে পাবে।

– কিন্তু তা আর সম্ভব নয়।

– কেন সম্ভব নয়?

– কারণ তারা ভালো খারাপের পার্থক্য বোঝার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। তারা গ্রহন বর্জনের মাপকাঠি নিয়ে এখন আর চিন্তা করে না। তারা সবকিছুই গিলে খাচ্ছে।

– আর এই সুযোগে উপরওয়ালারা জাতির মন মানসিকতা নিয়ে ব্যবসা করছে।

– এতক্ষণে তুমি জায়গামত এসেছ। বর্তমান প্রজন্ম নতুন কিছুর প্রতি আকর্ষণ হারায়নি। সেটা ঠিক আছে। যেটা হয়েছে সেটা হল, তারা এখন প্রচণ্ডভাবে বিক্ষিপ্ত মন মানসিকতার অধিকারী। তারা রাবারের বলের মত খালি লাফালাফি করছে। এখান থেকে ওখানে যায়। ওখান থেকে এখানে আসে। কোন স্থিরতা নেই। স্বাভাবিক চিন্তা ভাবনার বাইরে চলে গেছে।

– নতুনত্ব তো মানুষকে আকর্ষণ করবেই।

– তা তো করবেই। মানুষের ধর্ম নতুন কিছুর দিকে আকর্ষণ দেখানো। না দেখতে চাইলেও সে নিজের অজান্তেই আড়চোখে সেদিকেই তাকিয়ে থাকবে। কিন্তু ভালমন্দ বিচারের তো একটা জায়গা থাকা দরকার। নতুন বিষয়টি মান সম্মত কিনা সেদিকে নজর দিতে হবে।  এমনকি সেটা তাদের ক্ষতির কারণ হতে পারে, তাদেরকে বিপদে ফেলতে পারে।

– মাপকাঠির কথা কি যেন বলছিলে?

–  মাপকাঠি। খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। ভালো খারাপের মাপকাঠি। কোনটা ভালো কোনটা খারাপ তা বুঝতে পারার জন্য মনোজগতে একটা মাপকাঠি থাকা খুব প্রয়োজন। মানুষ আজকাল যাই পায় গ্রোগ্রাসে সাবাড় করে। খাওয়ার পর সবাই বলে, ভালোই খেলাম। আসলে পরিমাণ বলতেই সবাই ব্যস্ত। কেউ বলে ২ প্লেট, কেউ আবার পাশ থেকে ৫ প্লট বলে লাফিয়ে ওঠে।

– যেন প্রতিযোগিতা হচ্ছে। তাইতো?

– এই তো সেদিন। জালালের ভাইয়ের বিয়ে। দাওয়াত দিল। গিলছে তো গিলছেই। বাসায় মনে হয় খাবার দেয় না । কিন্তু দেখবে বাসায় যেয়ে আবার খাবে। রান্না ভালো কি মন্দ তা নিয়ে কারো মাথা ব্যাথা নেই। খাওয়ার পর যে অন্তত বলবে যে ভালো রান্না হয়েছে। তাও না।

– বুঝলাম।

– শুধু খাবার না। মানুষ কোনকিছুতেই আর আজকাল বাছবিচার করে না। যুগ তাদেরকে যাই উপহার দিচ্ছে তা তারা গ্রহণ করছে।

– যুগের সাথে তাল মিলিয়ে চলাটাকে তুমি তাহলে অন্যায় বলছ?

– না, তা ঠিক নয়। কিন্তু একটু আধটু চিন্তা তো করা দরকার যে আমি আসলে কি করছি। নিজের সম্মান নিজের ইতিহাস।, নিজের সংস্কৃতি, এসব তো আর ভুলে যাওয়া সম্ভব না।

-ইতিহাস বলতে তো আজকাল কিছুই নেই। সময়ের সাথে সাথে শব্দটাই যে কবে পাতিহাস হয়ে যায়, কে জানে? গায়ের জোর থাকলেই আজকাল ইতিহাসের পাতায় নাম লেখানো যায়। ব্যাপারটা এরকম, দোকানে গিয়ে বললাম “ভাই, ইতিহাস টা একটু লিখে দেন তো।” তাহলেই ইতিহাস লেখা হয়ে গেল। সে সব বাদ দিলাম। কিন্তু জাতিসত্তা আর সংস্কৃতি নিয়ে তো একটু চিন্তা করা যায়।

– কিসের চিন্তা কিসের কি। না আছে নিজের কিছু, না আছে অন্যদের কিছু। অন্যদেরটা নিতে চাও, নাও। কিন্তু তাও ঠিকমত পারে না। শেষ পর্যন্ত জগাখিচুড়ি একটা কিছু হয় আরকি।

– মানুষ কি এসব বোঝে না, নাকি বুঝেও না বোঝার ভান করে? এতে তো মৌলিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে!

– তা তো উঠছেই। বাঙালি জাতি বলতে আজকাল কিছু আছে নাকি। বাঙালি সংস্কৃতি আজ ইতিহাস। আছে খালি এক ভাষা, তারও যা অবস্থা হচ্ছে দিন দিন।

– তারা তো বলছে এসব আঞলিকতা, নিজেদের সম্পত্তি।

– কিসের আঞলিকতা। যত সব ভণ্ডামী, আঞলিকতার নামে সব নষ্টামি। আর দর্শক বলতে আছে একদল খাদক। যা দিবে তাই খাবে। খালি গিলবে। কোন প্রশ্ন তুলবে না। তাদের কাছে সব নতুনত্ব।

– অথচ এই ভাষার জন্য জীবন দিয়েছিল তারা। কোথায় গেল তাদের সেই চেতনা । কোথায় গেল ভাষার জন্য ভালোবাসা।

– কি আর বলব তোমাকে। নিজের ভাষায় কথা বললে অনেক জায়গায় অশিক্ষিতদের দলে ফেলা হয়। ইংরেজি আন্তর্জাতিক ভাষা। জানাটা প্রয়োজন। কিন্তু অবশ্যই নিজের ভাষাকে বাদ দিয়ে নয়। পরিস্থিতি এমন যে বাংলা ব্যবহার করলে নিজের সম্মান কমে যায়।

– ভাই, আমি তো অন্ধকার দেখছি। কি হবে আমাদের। আমরা তো হারিয়ে যাচ্ছি।

– বুঝতে পারলে তাহলে, কেন নেতিয়ে যাচ্ছি। কেন আমি আত্নবিশ্বাস হারিয়ে ফেলছি। নিজেদের পরিচিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। তখন কোথায় যাব আমরা?!

– বুঝলাম। সবই বুঝলাম।

– ইতিহাসের পাতায় শুধু থাকবে, এমন এক জাতি ছিল যারা ভাষার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত ছিল। তারা এখন বিলুপ্তপ্রায়। কত কবি, কত সাহিত্যিকের ভাষা এই বাংলা। হায়রে রবীন্দ্রনাথ, হায়রে নজরুল। তোমাদের বিজয়গাঁথা যে আজ ধুলায় মিশে যেতে বসল।

– আমি আর নিতে পারছি না ভাই।

– নিতে যে হবেই। এছাড়া যে আর কোন রাস্তা নেই। সময় প্রায় চলেই আসলো । সব বুঝতে পেরেও আমাদেরকে আজ ওদের দলে যোগ দিতে হবে।

– কিছুই কি করার নেই। কোন ভাবেই কি আমাদের হারিয়ে যাওয়া সম্মানকে ফিরিয়ে আনা যায় না। কোন ভাবেই কি ভাষার সম্মান, আমাদের বাংলার সম্মান ফিরে আসবে না। কোনই কি উপায় নেই।

– উপায় একটা আছে। তবে সেটা কতটা কার্যকরী তা এখনো বুঝতে পারছি না।

– কি উপায় ভাই?

– বড় কঠিন সেই পথ। বাঁধা যেন প্রত্যেক মোড়ে মোড়ে।

– বাঁধা থাকলেও করার কিছু নেই। বেশ ভালোমতো বুঝতে পারছি। সে উপায়টা শুধু আমাকে বলো।

– প্রথমে সব মুখচোরা গুলোকে এক করতে হবে।

– মুখচোরা কে এখানে?

– আছে কিছু মুখচোরা। তারা লুকিয়ে থাকে। কিন্ত তারাই আসল ইতিহাস জানে। ভাষার প্রকৃত সম্মান তারা বোঝে। তাদেরকে এক করতে পারলে কিছু একটা হতে পারে। তাদের হাতে ধারালো অস্ত্র আছে। কিন্তু তারা তা ব্যবহার করতে চায় না। তাদেরকে উত্তেজিত করতে পারলেই কাজ হতে পারে।

– তারা যদি কাজ করতে না চায়।

– তারা কখনোই কাজ করতে চাইবে না। কিন্তু আমাদের হাতে সময় নেই। এছাড়া কোন রাস্তাও আমার চোখে পড়ছে না। ভাষার বর্তমান অবস্থা যদি তাদেরকে বোঝানো যেতে পারে তাহলে মনে হয় তারা সামনে এগিয়ে আসবে। গুহার ভেতর থেকে তারা বেরিয়ে আসবে। কারন ভাষাই তাদের সব। তারা অবশ্যই আসবে। আর আমাদের কাজ হল শুধু তাদেরকে এক করা। বাকিটা করার রাস্তা আমাদের চেয়ে তাদের ভালো জানা আছে।

-তাহলে তো হয়েই গেল। এখন নিশ্চিন্ত মনে সকালের নাস্তা টা সেরে ফেলা যায়।

– নাহ ভাই। ঝামেলা আরো আছে।

– আবার কি হল!

– মানুষ যে তাদেরকে নিবে, তার নিশ্চয়তা কোথায়?

– নিবে না কেন? তাদের অস্তিত্ব নিয়ে কথা হচ্ছে এখানে। তারা এর গুরুত্ব বুঝবে না? মানুষ এখনও এত নীচে নামতে পারে নি।

– নিবে না কথাটা যে ভুল সেটা আমিও জানি। কথাটা হল তারা নিতে পারবে কিনা।

– তোমার কথার কোন অর্থ খুঁজে পাচ্ছি না। আমাকে পরিষ্কার করে বল।

– নেয়ার ক্ষমতা যে তারা অনেক আগেই হারিয়ে ফেলেছে। তোমাকে এই কথা প্রথমেই বলেছি আমি। ভালো খারাপ বলে তাদের কোন ধারণা নেই। এ সমস্যার যে কোন সমাধান পাচ্ছি না, ছোট।

– আবার আমাকে হতাশ করলে তুমি।

– কিছু করার নেই। মূল্যবোধ বলে সমাজের dictionary তে কোন শব্দ নেই আজকাল। সুন্দর মানসিকতার মানুষ পাওয়া যায় না। সারাদিন শুধুই কে কার চেয়ে ক্ষমতাবান, তাই নিয়ে ব্যস্ত। দিন শেষে পকেটের ওজন নিয়ে কথা হয়। তারপর, একজন আরেকজনের পেছনে লেগেই আছে। শুধু সুযোগ পেলেই ব্যস, পেছন থেকে ধাক্কা। কথা কিভাবে বলতে হয় তাই ভুলে গেছে। মানুষকে মানুষ বলে মনে করে না কেউ। শুধুই প্রতিযোগিতা।

– এসব কি বলছ ভাই। আমার তো ভয় হচ্ছে। এদের তো দেখছি মন বলতে কিছু নেই। এদের কাছে ভাষা তো এখন বহু দূরের কথা। সেটা তো এখন তাচ্ছিল্যের পর্যায়ে চলে গেছে।

– শুধু তাচ্ছিল্য নয়। ময়লার বস্তা। প্রতিদিন এক বস্তা করে কুকুরের খাবার জোগাচ্ছে।

-আর নিতে পারছি না।

– নিতে যে হবেই ভাই। যোগাযোগ ব্যবস্থা সামনের দিকে যাচ্ছে আর খারাপের শক্তি বেড়েই যাচ্ছে। ইন্টারনেটের যুগ বলে কথা। বাতাসের চেয়েও আগে ছোটে।

– তাহলে তো সুযোগ এখনো রয়েছে ভাই।

– যোগাযোগ কে কাজে লাগাতে চাও? পারবে ওদের সাথে? ওদের শক্তি অনেক বেশি । কোন লাভ নেই। ওদের কাজের কোন খুত খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে একটা কাজ করা যেতে পারে।

– বলে ফেলো।

– যদি পড়াশুনার মাথাগুলোকে বদলানো যায়, তাহলে কিছুটা কাজ হতে পারে। তখন তাদের শক্তিটা ভাল কাজে লাগবে।

– এতো বড় কঠিন কাজ। মাথা কেটে নতুন মাথা জোড়া দিবে কে? কে সেই ডাক্তার?

– তৈরি করে নিতে হবে। স্কুল পর্যায় থেকে কাজ শুরু করতে হবে। তাহলে নতুন ভাবে বীজ বপন করা সম্ভব। আর শিক্ষক হিসেবে থাকবে আমাদের মুখচোরাগুলো। তাহলে কাজ হতে পারে। কারণ তারাই পারে সঠিক ইতিহাস নতুনদের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে। তারা ভালো খারাপের পার্থক্য বোঝে। তারা মূল্যবোধের সঠিক জ্ঞান রাখে। এটাই হতে পারে একমাত্র পন্থা

আমার কথায় যুক্তি আছে কি নেই।

– যুক্তি তো আছেই। এটাই যে এখন একমাত্র উপায় তাও বুঝতে পারছি। কিন্তু এ যে অনেক সময়ের ব্যাপার। এত সময় কি আছে?

-সময় দিতেই হবে। এরা মাথা হলেই ব্যাস। কাজ হতেই হবে। মাথা কেটে নতুন মাথা স্থাপন করবে। আবার সমাজে মুল্যবোধ ফিরে আসবে। ভাষার সঠিক প্রয়োগ তখন তো শুধু কিছু সময়ের খেল মাত্র।

– তাহলে তো হাতে অনেক কাজ। বসে থাকার সময় নেই।

– তা তো একদম নেই। নতুন কি যেন সিনেমা আসলো। নাম কি যেন?.

– আয়নাবাজি।

– নাম খান তো বেশ। কাজ কেমন?

– শুনলাম তো ভালো কাজ হয়েছে।

-যাক শুনে ভালো লাগল। ভালো কাজ হলেই ভালো। গুণমুগ্ধ দর্শক এখনো কিছু আছে। আর হাভাতে জাতি তো আছেই। যা পায় তাই নাকি খায়। তা ভালো খাবার টাই খাক। তাতে কোন আপত্তি নেই। সিনেমা জগতে একটা বড় ধাক্কা অনেক দিন থেকেই খুব জরুরি হয়ে পড়ছিল। কিছু ভালো কাজ যে একেবারেই ছিল না, তা নয়। তবে ধাক্কাটা একটু শক্তিশালী হলে থার্মোমিটার এর দাগটা একটু উপরের দিকে চলে যাবে আরকি। এখন খারাপগুলাও বেশি নিচে নামতে পারবে না।

-যে জাতির ইতিহাসে সত্যজিত রায়, প্রমথ চৌধুরী আছেন, সে জাতিকে নিয়ে যে এত চিন্তা করতে হবে, তা কি কখনো চিন্তা করেছ?

– কখনোই না। সেই চিন্তা করিনি বলেই আজ এই দশা।

– বুঝেছি, আজ আর নাস্তা করা হবে না আমার। কিন্তু ইতিহাস গুলো এভাবে নষ্ট হচ্ছে কিভাবে?

– ছেলেপেলেরা আজকাল বই পড়তে নারাজ। কিছু বাদে বাকি সবার একই অবস্থা। আর বই না পড়লে ইতিহাস পাল্টাবেই।

– বুঝলাম। এ তো আরেক সমস্যা। এ বিষয় কি তাদেরকে বোঝানো আদৌ সম্ভব!!

– প্রমথ চৌধুরী তাঁর ‘বই পড়া’ প্রবন্ধে বলেছিলেন, ” বই পড়া শখটা মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ শখ” কিন্তু এ কথা বলে যে কাজ হবে না তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। নিজেই বলেছেন, ” এ কথা কারো কাছে গ্রাহ্য হবে না”। কিন্তু বইয়ের উপর মানুষের এরকম বিরূপ মনোভাব কেন তৈরি হল তা বুঝলাম না।

– বই পড়া থেকে কি লাভ হয়, তা তাদেরকে কখনোই বোঝানো হয়নি মনে হয়। বই পড়ে টাকা উপার্জনের ব্যবস্থা করে দাও, দেখবে সব দরখাস্ত নিয়ে সেজেগুজে বই পড়তে আসছে। যে ৫ টা বই পড়বে তার বেতন ৫০০০ টাকা। নাকি কম বলে ফেললাম।

– তা হতে পারে। কিন্তু বই এর সাথে লাভ লোকসান এর কথা আসবে কেন! এটা তো অবসর সময় কাটানোর একটা পন্থা মাত্র। তবে এই অভ্যাস ছোট থেকে না হলে পরবর্তীতে হাজার চেষ্টা করেও কাজ হবে না।

-কিছু লাইব্রেরি শুরু করা যায় না? যদি ছেলেপেলেরা কিছু আসে। তাতেও তো কিছুটা কাজ হতে পারে।

-কাজ তো হবেই। বই হাতে নিলেই কাজ হবে। কিন্তু যা অবস্থা, ওই লাইব্রেরির সাথে খাবার দোকান না থাকলে কেউ আসবে না। বইয়ের উপর কোন আকর্ষণ কাজ করে না তাদের। শেষ হয়ে যাচ্ছে সবকিছু।

– বর্তমান young generation নিয়ে কোন আশা নেই বলছ?

– নাহ্। কোন আশা নেই। তাদের মানসিকতার বেশিরভাগ অংশই আজ বিকৃত। তাদের মন খুব বেশি লাফালাফি করছে। কোন কাজে স্থিরতা নেই। পরিবেশ দ্বারা খুব বেশি মাত্রায় প্রভাবিত। নিজেদের মস্তিষ্ক ব্যবহার করতে চায় না। ভালো মন্দের কোন ধারণা নেই। ভবিষ্যৎ চিন্তা ভাবনায় শুধু অর্থ উপার্জন। ভাষার ব্যবহার বাদ দিলাম। সেটা ফুটবল বানিয়ে লাথি মারাই তাদের কাজ। কে কত জোরে লাথি মারতে পারে তাই নিয়ে তাদের প্রতিযোগিতা।

– কিছু কিছু কাজ যে তারা করছে না তা নয়। কেউ গরীবদের শিক্ষার ব্যবস্থা করছে। বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে সমাজ নিয়ে। সামাজিক বিষয়গুলো নিয়ে আন্দোলন করছে। বিষয়গুলো কিন্তু একেবারেই ফেলনা নয়।

– তা নয়। কিন্তু কয় জন? ১০ জন, ৫০ জন? দেশের লাখ লাখ ছাত্র ভর্তি পরিক্ষা দিতে আসে। আর এসবের জন্য ১০০ জন হয় না। ভাবতেই কষ্ট হয়।

– যা বলেছ ভাই। এর চেয়ে চায়ের আড্ডাগুলোতেও বেশি মানুষ থাকে।

– তবে পরিবর্তন আসবে। তারা আসবে। ভাষার জন্য কাজ করবে। তারা অনেক শক্তিশালী হয়েই জাতির হাল ধরবে।

– কাদের কথা বলছ তুমি?

– আশা রাখি। হয়ত দেখতে পারবে কিছুদিন পরেই । তবে তারা মুখচোরা হবে না। তারা ভীতু নয়। তাদের মস্তিষ্ক বিকৃত নয়। তারা সুন্দর মন মানসিকতার অধিকারী। তারা ইতিহাস জানে। আমি এখন শুধু অপেক্ষা করছি সুন্দর দিনের। তারা আমাকে নিশ্চিন্ত করবেই করবে।

– তাহলে আমিও নিশ্চিন্ত মনে নাস্তা করে নেই। কী বল ভাই?

– অবশ্যই। নিশ্চিন্তে বসে পড়।।।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *