pitri somotullo netaji
কথোপকথন ও চিঠিপত্র

পিতৃ সমতুল্য নেতাজি – সুনীল বড়ুয়া

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পিতৃ সমতুল্য নেতাজি,

আজকে চৌষট্টি দিন হল ঘরে বন্দি। এখানে রীতিমতো আমার জন্য হুলিয়া জারি হয়ে আছে। এখন অব্দি নিশ্চিত হতে পারেনি তবে তারা ধারণা করে যে আমি চব্বিশ পরগনাতেই আছি। আপনার সাথে যেদিন শেষ দেখা হয়েছিল, তীব্র যন্ত্রণা নিয়ে বলেছিলেন যদি বেঁচে থাকি তাহলে অবশ্যই নাকি আমার বাড়িতে নিমন্ত্রণ নিবেন। আমি কিন্তু আপনার চোখ পড়তে পারি, সে রাতে হারিকেনের আলো-ছায়াতে  স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল আপনি কতটা হতাশ হয়ে পড়েছেন। গান্ধীজী যে পথে এগোচ্ছেন রক্ত হয়তো আর দিতে হবে না, কিন্তু যে পরিমাণ ঘাম কৃষকের দিতে হবে তা হয়তো উনি অনুভব করতে পারছেন না। আপনি কি বলতে পারেন রক্ত আর ঘামের মধ্যে তফাৎ কি? ছোটবেলায় পিসিমার কাছে শুনেছিলাম, গতরে যা বহে তা  পানি, রাস্তায় গড়ালে হয় রক্ত। চৌদ্দই অগ্রহায়ণ,  চান মিয়ার পত্র পেয়ে দুটি স্টেনগান আর সামান্য কিছু এমুনেশন নিয়ে হাওড়ার দিকে রওনা দিয়েছি। এর মধ্যে খবর পেলাম পরম স্নেহের ভ্রাতৃতুল্য  কালামের বাড়ি লর্ড ক্লাইভের দাশগুলো ঘেরাও করেছে. প্রচণ্ড বিপদ হতে পারে জেনেও নিজেকে ধরে রাখতে পারলাম না। কালো চাদরে নিজেকে জড়িয়ে ছুটে গেলাম দেখার জন্য। ইংরেজ সরকারের প্রচন্ড জেরার মুখে বাবা এবং ভাই স্বীকার করেনি কালাম কোথায়। এক পর্যায়ে ওর বাবার মাথাটা বুটের লাথিতে থেতলিয়ে দেয় , বেশিক্ষণ সময় নেন নাই। দশ মিনিটের মাঝেই ইমাম সাহেব নিজেকে মুক্তি দিয়ে বিদায় নেন। সশস্ত্র অবস্থায় থাকার পরও নিজেকে ভাবলেশহীন ভাবে গুটিয়ে নিতে হলো, আমার একটি মাত্র ভুল পদক্ষেপ আমাদের সকল পরিকল্পনাকে এক নিমিষে নসসাত করে দিতে পারে। কখন  জানি নিজের অজান্তেই মুখ দিয়ে বের হয়ে আসলো,

ইনকিলাব জিন্দাবাদ 

ইনকিলাব জিন্দাবাদ

এই যে দেখেন, কত বড় গস্তাগি করে ফেলেছি! জিজ্ঞেস করিনি কেমন আছেন। যদিও বিদ্রোহীরা কখনোই খারাপ থাকে না, আমি স্পষ্ট দেখতে পাই থ্রি-নট-থ্রি বন্দুকের ব্যাড়েলের পয়েন্ট ব্ল্যাংকে আপনার সেই চিরচেনা হাসি। আপনি শুনে বেশ আপ্লুত হবেন ,আমাদের কলকাতার ছোট্ট একটা ক্ষ্যাপাটে ছেলে বৃটিশ বিরোধী কবিতা লিখে একেবারে ওদের গতি কাঁপিয়ে দিয়েছে । প্রত্যেকটা যুবকের মুখে মুখে ওর কবিতা রটে গেছে, পরে বাধ্য হয়ে ব্রিটিশ সরকার ওকে খাঁচায় ভরেছে। তবে বেশি দিন রাখেনি। লোক মুখে শুনলাম ছেলেটার নাম নাকি নজরুল। সে নাকি এখন আরো সক্রিয়। সময় ঘনিয়ে এসেছে, এত দিন পর সবাই মুখ খুলতে শুরু করেছে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট রুজভেন্ট ব্রিটিশ সরকারকে যথেষ্ট চাপ দিয়েছেন, তাদের ফরেন মিনিস্টার বলেছেন ব্রিটিশ সরকার ভারতের উপর জোর-জবরদস্তি করছেন। আমরা এখানে সবাই ভাল আছি, অপেক্ষায় আছি পরবর্তী নির্দেশ ও আপনার চরণের ধূলি নেবার জন্য । 

বিদায় 

ইনকিলাব জিন্দাবাদ ।।


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *