chithi-prio nishithini
কথোপকথন ও চিঠিপত্র

চিঠি- প্রিয় নিশিথিনী – আরুশ অনিন্দ্য

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

প্রিয় নিশিথিনী

আমাদের এই ছন্নছাড়া বেহিসেবি মৃত্যুযাত্রার কত গল্প মুছে দিলে বলো তো নিয়মের বেড়াজালে ?

এই যে জল ভেজা শহরের বুক কাঁপিয়ে দপদপ করে হেঁটে বেড়ালাম ভিন্ন গন্তব্যের খোঁজে,তার সমাপ্তি কোথায় হয়েছে মনে পড়ে?

অথবা ব্যস্ত উদ্যানের পাশে দাঁড়িয়ে  ফেরিওয়ালার কাছ থেকে কেনা ধুলো মাখা ঝালমুড়ির স্বাদ নিতে কতবার আমাদের বিশুদ্ধ নিঃশ্বাসে শহরের বুকে আরেকটু দূষণ কমিয়েছিলাম মনে আছে?

এই তো  যেদিন চঞ্চল কিশোরীর সিঁথিতে ছোঁয়া সদ্য শুভ্র সিঁদুরের ন্যায় রং মাখা মাখা আকাশ তার আবরণে নীল শাড়ি পেঁচিয়ে রেখেছিল, দিয়েছিল একরাশ পেজা তুলোর ন্যায় মেঘ ছড়িয়ে স্বীয় আঁচলে,সে মেঘকে মুঠোয় আঁকড়ে বাঁচতে চেয়েছি কতবার?

যে ম্লান আকাশের নীচে  দাঁড়িয়ে গেলাম প্রস্থানের শেষে হটাৎ পরিচিত কোনো কণ্ঠের ক্লান্ত কিছু সাবধান বাণীর আকাঙ্খায়, সেসব শব্দের উচ্চারণ হয়নি মস্তিস্ক থেকে বেরিয়ে কণ্ঠস্বরে।

যে মুহুর্তে ভেজা তুলো থেকে চুইয়ে পড়া জলবিন্দুর ন্যায় বৃষ্টির প্রথম অশ্রুবিন্দু স্পর্শ করে আমার শহরের তৃষ্ণার্ত বুকে,তখন তোমার অনলে ডোবা শহরেও কি বর্ষা নামে অকারনে?

যে প্রথম জলবিন্দু তোমার শীতল দৃষ্টি বেয়ে নেমে যায় তোমার মাতৃরূপ ওষ্ঠের কোণ ছুঁয়ে কোনো অদেখা স্বর্গ নদের জলে,সে বিন্দু কি সময়ের ফেরে কখনো এসে নামে আমার শহরে?

তোমার পায়ের নিচে যে বোবা ঘাসফুল দুমড়ে যায়,তাদের আর্তনাদ কি পৌঁছায় তোমার পদতলের নিস্তব্ধতা থেকে আমার মস্তিষ্কে??

যে অচেনা আলোয় আমার চার দেয়ালের তোমার প্রতিচ্ছবি দেখি, তেপান্তরের মাঠ খুঁজে হেঁটে বেড়াই দুই অনন্য সত্ত্বা, অনন্তের পানে ;সে আলোর স্বরূপ চিনিয়ে দেয়ার দায়িত্ব ভুলে গেলে কতবার?

এতসব ভ্রান্ত প্রশ্নের মাঝে ভাবতে ইচ্ছে করে তুমি যে  এই নগরের নগ্ন রাস্তায় হেঁটে যাও নির্ভাবনায়,কত অনিশ্চয়তা মেপে পা ফেলে যাওজল জমা রাস্তায়।

হটাৎ পদস্খলন হয়ে সে স্বর্গ অতলে তলিয়ে যাবে না তো নিজেই?

কোনো কামনার চোখে ধরা পড়বে না তো অকস্মাৎ?

অথবা,দুর্নিবার কোনো সঙ্কটের বেড়াজাল এসে আঁকড়ে নেবে না তো তোমায়?

এত সব প্রশ্নের চক্রে আটকে তোমাকে হারিয়ে ফেলছি আমি,নিজের আঁধারের রাজ্যে।

তুমি যে বেখাপ্পা কবিতার সমাপ্তি শুনতে চাওনি, তারা সব অভিমানে পথ হারিয়েছে নগরের অচেনা রাস্তায়,অতঃপর বিদ্বেষী এই নগরের কঠোর অভিশাপে পুড়ে ছাই হয়ে মিশে গেছে তোমার ঐ কাজলের ভিড়ে।

তুমি যে বেসুরো গানে কর্ণপাত করোনি,তারা আমার কণ্ঠে আটকে নিশ্বাস রুদ্ধ করে নিঃশেষ করে নিচ্ছে আমার জীবনের আকুতি…

অতঃপর

সমাপ্তি? কিংবা সূচনা?

 তোমায় খুঁজে নেবো বারবার, এই শহরে, এই নগরে, অথবা অন্য কোনো নগরের রাজপথের চোরাগলিতে।

ততদিন সামলে থেকো,যে পথে নীরব অশ্রুপাত করে যাও নিশ্চিন্তে,সে পথপানে আমায় খুঁজে পাবে,তোমার অশ্রুর শুকিয়ে যাওয়া রক্ত বিন্দুতে….

ভালো থাকতে বলবো না,ভালো রাখার দায়িত্ব এ মহাজগত আমার কাঁধে তুলে দিয়েছে অকস্মাৎ, তবুও তোমার মনে আমি হস্তক্ষেপ করবো না ,

ইচ্ছে হলে,আকাশ কাঁদলে খারাপ থেকো,রোদ উঠলে হেসো।

ইতি অনিন্দ্য


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *