alur chips rohossho
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও ইতিহাস

আলুর চিপস রহস্য – হুসাইন হায়দার সাদর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মুখরোচক খাদ্য হিসেবে আলুর চিপস বহুল প্রচলিত। ছোট-বড় অনেকেই খুবই পছন্দ করেন এই আলুর চিপস। তবে কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। কোথা থেকে আসলো এই আলুর চিপস ? প্রথম কিভাবে তৈরি করা হয়েছিল? এখনকার স্বাদ আর তখনকার স্বাদ কি একই রকম ছিল? আলুর চিপস যেমন মুখরোচক খাবার হিসেবে পরিচিত তেমনি এটি আবিষ্কার হওয়ার পেছনে আছে একটি মজাদার কাহিনী।

জর্জ ক্রাম (George crum) একজন আফ্রিকান-আমেরিকান বাবুর্চি ছিলেন। ১৮৫৩ সালে তিনি  নিউ ইয়র্কের সারাটোগা স্প্রিংস (Saratoga springs) নামক জায়গায় মুন লেক লজ রেসোর্টে (moon lake lodge) কাজ করতেন। একদিন তার দোকানে এক বদরাগী কাস্টমার আসেন। তিনি ফ্রেঞ্চফ্রাই অর্ডার করেন। ক্রাম ফ্রেঞ্চফ্রাই পরিবেশন করেন। কিন্তু ক্রামের পরিবেশিত ফ্রেঞ্চফ্রাই দিয়ে সেই ব্যক্তিকে খুশি করা যায়নি। উল্টো সেই ব্যক্তি অভিযোগ জানান যে,  ফ্রেঞ্চফ্রাইগুলো বেশি পুরু হয়ে গেছে আর লবণ ঠিকমত দেওয়া হয়নি। এ কারণে ক্রাম কিছুটা পাতলা একটি ব্যাচ তৈরি করেন আর বেশি করে লবণ দেন। কিন্তু তিনি কোনোভাবেই সেই কাস্টমারের মন ভরাতে পারলেন না। এভাবে কিছুক্ষণ চলার পরে ক্রাম মর্মাহত হয়ে যান । প্রচণ্ড বিরক্ত হয়ে তিনি ফ্রেঞ্চফ্রাইগুলোকে এতটাই পাতলা করে ফেলেন যে, সেগুলোকে খাওয়ার জন্য কাঁটা চামচ ব্যবহার করার দরকার হয়। তিনি লবণের পরিমাণ আরো বাড়িয়ে দেন। তিনি কাজটি করেন ঐ কাস্টমারকে বিরক্ত করার জন্য। অথচ সেই ব্যক্তি খুশি হন এবং অত্যন্ত মানসিক তুষ্টি নিয়ে রেস্টুরেন্ট ত্যাগ করেন। এই ঘটনার মধ্য দিয়ে যে বিষয়টি হলো সেটি হচ্ছে আলুর চিপস আবিষ্কৃত হয়ে যায়। ক্রামের আবিষ্কৃত এই রেসিপি সারাটোগা চিপস  (saratoga chips) এবং পটেটো ক্রাঞ্চেস ( potato crunches) নামে পরিচিতি পায়। পরবর্তীতে এগুলোকে ইংল্যান্ডে বাজারজাত করা হয়। এরপর নিজেই তিনি আলুর চিপসের রেস্টুরেন্ট খোলেন।

তবে বিভিন্ন ইতিহাসবিদদের মতে আলুর চিপস আবিষ্কারক হিসেবে জর্জ ক্রাম নিয়ে কিছু দ্বিমত রয়েছে। সর্বপ্রথম ১৮১৭ সালে উইলিয়াম কিচিনারের (William Kitchiner) লেখা রান্নার বই ‘দি কুক’স ওরাকল’ (The Cook’s Oracle) -এর মধ্যে বর্তমান আলুর চিপসের মত খাবারের রেসিপি পাওয়া যায়। বইটি তৎকালীন সময়ে আমেরিকা এবং ইংল্যান্ডের বেস্ট সেলার বই ছিল। এরপর ইংল্যান্ডে ১৮২৫ সালে ফ্রেঞ্চ খাদ্য নিয়ে প্রকাশিত একটি বইয়ে আলুর চিপসের রেসিপি পাওয়া যায়। বইটির রেসিপিতে লবণের উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এছাড়াও আমেরিকায় প্রকাশিত আরো কয়েকটি বইয়ে আলুর চিপসের রেসিপি পাওয়া যায়। যেমন- ১৮২৪ এ প্রকাশিত মেরি রেন্ডল্ফের (Mery Randolph) লেখা ‘ভারজিনিয়া’স হাউস-ওয়াইফ’ (Virginia Housewife) , এন.কে.এম. লী (N.K.M. Lee) -এর বই ‘কুক’স ওন বুক'(Cook’s Own Book) ইত্যাদি।

ঘটনাপ্রবাহ থেকে এতটুকু বোঝা যায় যে, শুধু ক্রামকেই আলুর চিপস আবিষ্কারের কৃতিত্ব সম্পূর্ণভাবে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে ক্রামের ঘটনাটি মানুষের মধ্যে এমনভাবে প্রচলিত হয়ে গেছে যে, তাকে আবিষ্কারক বলাটা দোষের কিছু হবে না। তবে এতটুকু নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, উনবিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই এর প্রচলন শুরু হয়। পরবর্তীতে নানা ধরনের সংযোজন, বিয়োজন আর বাজারজাতকরণের মধ্য দিয়ে সারা পৃথিবীতে আলুর চিপস আজ একটি বহুল প্রচলিত খাদ্য। 

তথ্যসংগ্রহঃ

১.Enchantedlearning.com

২.History.com

৩.Wikipedia 


  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *